জনপ্রিয়তার শীর্ষে খন্দকার মোহাম্মদ সোলায়মান

খন্দকার মোহাম্মদ সোলায়মান সুখন  নামেই পরিচিত।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লাখ লাখ মানুষের উৎসাহদাতা।  তরুণ প্রজন্মের কাছে আইডল।  জীবন সংগ্রামের ভাঙা-গড়ার অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়ে প্রেরণা জোগান।  সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে তৈরি করেন জনসচেতনতা। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়; বিভিন্ন সেমিনার ও জাতীয় অনুষ্ঠানে কথার জাদু ছড়িয়ে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছেন ৪০ বছরের এই সোলায়মান সুখন।

খন্দকার মোহাম্মদ সোলায়মান এর পরিবার

১৯৮০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি  সোলায়মান সুখনের জন্ম যশোর সেনানিবাসে। সাবেক সেনা সদস্য বাবা আব্দুল ওয়াদুদ আর মা সামসুন নাহার খন্দকার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা।  তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা সুখনের। 

জনপ্রিয়তার শীর্ষে খন্দকার মোহাম্মদ সোলায়মান
খন্দকার মোহাম্মদ সোলায়মান

মোহাম্মদ সোলায়মান এর শিক্ষাজীবন

শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল মায়ের হাতে আঁকা বই দিয়ে।বাবার চাকরিসূত্রে বিভিন্ন স্কুলে পড়ালেখা করতে হয়েছে সুখনের।  জালালাবাদ সেনানিবাস উচ্চ বিদ্যালয়ে শুরু হয় শিক্ষা জীবন।  এরপর বিভিন্ন স্কুল পেরিয়ে ১৯৯৫ সালে মুসলিম মডার্ন একাডেমি থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।  ২০০০ সালে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি থেকে কমিশন প্রাপ্ত হন।  এরপর চাকরি ছেড়ে বন্ধুর পরামর্শে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (আইবিএ)।  ২০০৫ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।  এরপর চাকরি করেছেন দেশের নামিদামি সব কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে আছেন নগদের হেড অফ মার্কেট ডেভেলপমেন্ট হিসেবে।

মোহাম্মদ সোলায়মান এর কর্মজীবন

বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির চাকরি ছেড়ে সুখন যখন ঢাকায় পা রেখেছিলেন তখন ভাড়া দেওয়ার পর পকেটে অবশিষ্ট ছিলো মাত্র ৭শ’ টাকা।  পকেটে টাকা না থাকলেও বুক পকেটে ছিলো স্বপ্ন।  ঢাকায় এসে বন্ধুর সাথে থাকা শুরু করেছিলেন বুয়েটের হোস্টেলে।  বন্ধুর পরামর্শে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে।  পড়াশোনা শেষ করে যোগ দিয়েছিলেন নিজের স্বপ্নের চাকরিতে।  ছোটবেলার দুষ্টু সেই মেধাবী সুখন কর্মজীবনেও সফল।  এত সফলতার মাঝেও তিনি আজ জনপ্রিয় ভিন্ন কারণে।  জনপ্রিয়তার কারণ তার কথার জাদু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যোগ দিয়েছিলেন ২০০৮ সালে।  প্রথমে ব্যক্তিগত জীবন ও হাসির ভিডিও আপলোড করতেন।  দেখলেন এসব ভিডিওতে সাড়া পাচ্ছেন।  তারপর শুরু করলেন ফোন বা নতুন ডিভাইসের রিভিউ করা।  এসবের মাঝে তিনি ভেবে দেখলেন, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন।  তিনি লক্ষ্য করলেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে।  তিনি তখন ফেসবুকে অনন্ত জলিলের পক্ষে নিজের মতামত তুলে ধরেন।  যা সেইসময় ফেসবুকে ব্যাপক সাড়া পায়।  তার আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তার দেওয়া বক্তব্যও ফেসবুকে তুমুল সাড়া ফেলে।  সেই থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে চলেছেন সুখন।

ফেসবুকে সমসাময়িক অনুপ্রেরণামূলক স্ট্যাটাস, ছবি ও ভিডিও পোস্ট করার কারণে ইতোমধ্যেই তরুণদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছেন সুখন।    তার কথার জাদুতেই কোন তারকা না হয়েও তিনি ফেসবুকের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। রয়েছে কয়েক লক্ষ  ফলোয়ার।  এছাড়া ২০০৯ সালে ইউটিউবে যোগ দেওয়া সুখনের এসব অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে দেখা হয়েছে কয়েক কোটি মিনিটেরও বেশি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *