Tor Browser 2020 টর ব্রাউজার- কিভাবে কাজ করে?

প্রাথমিকভাবে টর ব্রাউজার Tor Browser নেটওয়ার্ক একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক সার্ভার; যা ইউএস নেভি দ্বারা উন্নয়নকৃত এবং বিশ্বব্যাপি ইউজারদের অনলাইনে তাদের পরিচয় লুকিয়ে রাখার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিলো। টর প্রোজেক্ট মূলত একটি অলাভজনক সংগঠন; যারা অনলাইন গোপনীয়তা টুল তৈরি করাকে গবেষণার মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখে।

টর ব্রাউজার Tor Browser 2020

টর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার জন্য মূলত একটি ব্রাউজারের দরকার হয়, যার নাম টর ব্রাউজার Tor Browser। টর ব্রাউজার ফায়ারফক্স ব্রাউজারের উপর মডিফাই করা একটি ব্রাউজার, যেটা টর প্রজেক্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডাউনলোড করা সম্ভব। ব্রাউজারটি জাস্ট আপনার সিস্টেমে ইন্সটল করার মাধ্যমেই আপনি এই নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড হয়ে পড়তে পারবেন, কোন আলাদা সেটিংস ঠিক করার প্রয়োজনীয়তা পড়বে না।

টর ব্রাউজার Tor Browser 2020 – কিভাবে কাজ করে?

টর নেটওয়ার্কে আপনার অনলাইন পরিচয়কে ছদ্মবেশে বিভিন্ন টর সার্ভার দিয়ে এনক্রিপশন করিয়ে তারপরে সেই ট্র্যাফিককে নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানো হয়; ফলে আপনার পরিচয় ট্র্যাক করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আজকের যেকোনো সাধারন ব্রাউজারে ইনকগনিটো মোড বলে একটি ফিচার থাকে, আমরা মনে করি এটি ওপেন করে নেট সার্ফ করলে আমাদের পরিচয় গোপন থাকবে, আসলে এটি ঠিক না। এতে শুধু

ব্রাউজারে আপনার ব্রাউজিং হিস্টরি সেভ হবে না, কিন্তু আপনার আইএসপি সবকিছু জানতে পারবে আপনি কোথায়, কখন এবং কি ভিজিট করছেন অনলাইনে।

সাধারনত আমরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য কি করি; যেকোনো পছন্দের ব্রাউজার ওপেন করে অ্যাড্রেস লিখে ঢুকে পড়ি। এরপরে আপনার রিকোয়েস্টটি আপনার কম্পিউটার থেকে আপনার আইএসপির কম্পিউটারে গিয়ে পৌঁছায় এবং আপনার আইএসপি আপনার রিকোয়েস্ট করা ওয়েব সার্ভারের কাছে পেজ চেয়ে অনুরোধ করে; একবার পেজটি পাওয়া গেলে সেটাকে আপনার কম্পিউটার পর্যন্ত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এখানে কিছু ফ্যাক্ট লক্ষ্য করুন; আপনি কোন সাইট ভিজিট করতে চাচ্ছেন সেটা সর্বদা আপনার আইএসপি জানছে আবার আপনি যে সাইট ভিজিট করছেন সেই সাইটও আপনার কম্পিউটার এবং আপনার আইএসপি সম্পর্কে জেনে যাচ্ছে। কেনোনা আপনার ভিজিট করা সাইটের কাছে আপনার আইপি অ্যাড্রেস চলে যাচ্ছে।

তো এভাবেই অনলাইনে আমাদের পরিচয় খোলাসা হয়ে যায়, এবং আমরা কি একটিভিটি দেখাচ্চি সেটাও লুকিয়ে থাকে না। শুধু এটুকুতেই কিন্তু শেষ নয়, আপনি যে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করছেন হতে পারে সে ওয়েবসাইটটি আপনার প্রত্যেকটি ইন্টারনেট কর্মকাণ্ড ট্র্যাক করার জন্য আপনার ব্রাউজারে কোন কুকিজ ছেঁড়ে দেয়।

কোন কোন সাইট আপনার সেবার মান উন্নয়ন করতে আমার কোন সাইট আপনাকে উপযুক্ত বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্যও কুকিজ প্ল্যান্ট করে থাকে; যেমন- গুগল বা ফেসবুক সবাই বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য কুকিজ বাবহা করে। কিন্তু কিছু সাইট আবার আপনার সকল ডাটা চুরি করার জন্য আপনার ব্রাউজারে কুকিজ বসিয়ে দিতে পারে। তো বুঝতেই পারছেন ইন্টারনেটে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য গুলো কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে।

এই অসুবিধা গুলো থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং বিশেষ করে আপনাকে অনলাইন প্রাইভেসি প্রদান করার জন্য টর ব্রাউজার টর নেটওয়ার্ক এর সাহায্যে কাজ করে থাকে। যখন আপনি টর ব্রাউজারে কোন অ্যাড্রেস লিখেন সেখানে প্রবেশ করার জন্য; ব্রাউজার আপনার ট্র্যাফিককে তৎক্ষণাৎ এনক্রিপটেড করে দেয় এবং সেই ট্র্যাফিককে সরাসরি ওয়েব সার্ভারের কাছে না পৌছিয়ে বিভিন্ন টর সার্ভারের মধ্যদিয়ে নিয়ে যায়।

ধরুন আপনি বাংলাদেশ থেকে টর ব্যবহার করে রংধনুবিডি ভিজিট করতে চাচ্ছেন, প্রথমে আপনার ট্র্যাফিককে এনক্রিপটেড করা হবে যাতে কেউ আপনার রিকোয়েস্ট পড়তে না পারে, তারপরে প্রথমে ধরুন অ্যামেরিকার সার্ভারে চলে যাবে সেখান থেকে ব্রাজিলের সার্ভারে যাবে, আবার ইন্ডিয়ান সার্ভার থেকে রাশিয়ান সার্ভার হয়ে তবেই নির্দিষ্ট ওয়েব সার্ভারের কাছে রিকোয়েস্টটি পৌঁছাবে। তো পদ্ধতিতে ঠিক কোন স্থান থেকে রিকোয়েস্টটি এসেছিলো সেটা ডিটেক্ট করা একেবারে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এখানেও কিছু ফ্যাক্ট রয়েছে যেগুলো আপনার জানা প্রয়োজনীয়; সাধারন ইন্টারনেট ট্র্যাফিক এসএসএল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ওয়েবসাইট এবং আপনার কম্পিউটারের মধ্যের ইন্টারনেট ট্র্যাফিককে এনক্রিপটেড করে রাখে। টর ব্রাউজারে প্রথমে আপনার ইন্টারনেট ট্র্যাফিককে এনক্রিপটেড করা হয় এবং সকল সার্ভারে এই ডাটাকে এনক্রিপ্ট করেই ট্র্যান্সমিট করানো হয়, কিন্তু ফাইনাল সার্ভার থেকে মানে যে সার্ভার থেকে ডাটাকে ফাইনালি টার্গেট ওয়েব সার্ভারের কাছে পাঠানো হয় সেখানে ডাটাকে ডিক্রিপ্ট করা হয় যদি ওয়েবসাইটটি এসএসএল ব্যবহার না করে (https)। আর ডিক্রিপ্টেড হওয়া নর্মাল ডাটা আপনার প্রাইভেসির জন্য ঝুঁকি পূর্ণ হতে পারে। তাই টর ব্যবহার করলেও আপনি যদি https সাইট ভিজিট করেন শুধু তবেই আপনার ডাটা এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড থাকবে।

আবার আরেকটি বিষয়, টর কিন্তু আপনার সম্পূর্ণ কম্পিউটারের ইন্টারনেট ট্র্যাফিককে টর নেটওয়ার্ক এর আওতায় নিয়ে আসে না। কেবল সে ট্র্যাফিক গুলো লুকায়িত থাকতে পারে যেগুলো শুধু টর ব্রাউজার দিয়ে ভিজিট করা হয়।

এখন ধরুন আপনার উইন্ডোজ ব্যাকগ্রাউন্ড আপডেট নিচ্ছে কিংবা আপনার ইন্সটল থাকা যেকোনো সফটওয়্যার তার সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করছে, এক্ষেত্রে টর কোন কাজে আসবে না আর এই ট্র্যাফিক গুলো আপনার আইএসপি রীড করতে পারবে। তবে আপনি ভিপিএন ব্যবহার করে আপনার সম্পূর্ণ কম্পিউটার ট্র্যাফিককে প্রাইভেট সার্ভারের মাধ্যম দিয়ে পরিচালনা করতে পারেন এমনকি আপনার আইএসপির চোখে ধুলো দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *